Friday, 26 August 2016
অগ্রক্রয় (Pre-emption)
অগ্রক্রয়ের সংজ্ঞাঃ শুফা(Shufa) একটি আরবী শব্দ যার অর্থ হলো অগ্রক্রয়। কোন সম্পত্তি বিক্রয় হয়ে গেলে উহা পুনঃক্রয় করার অধিকারকে শুফা বা অগ্রক্রয় বলে ।
অগ্রক্রয়ের দাবী, শর্তবলী এবং আনুষ্ঠানিকতা সমূহঃ অগ্রক্রইয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করা। যদি এই সকল আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে এবং উপযুক্ত সময়ে পালন করা না হয়, তবে কোন ব্যক্তিই অগ্রক্রয়ের অধিকারী নয়। এই সকল আনুষ্ঠানিকতা সমূহ হচ্ছে-
১)প্রথম দাবী (তলব-ই-মৌসিবত) যে ব্যক্তি বিক্রয়ের সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথেই বা অব্যবহিত পরই অধিকার দাবী করার ব্যাপারে নিজের অভিপ্রায় ঘোষণা করে। এই আনুষ্ঠানিকতা কে প্রথম দাবী বা তলব-ই-মৌসিবত বলে । ইহা মৌখিক বা লিখিতভাবে করা যেতে পারে। প্রথম দাবীর জন্য কোন সাক্ষীর উপস্থিতি অপরিহার্য নয়।
২)দবিতীয় দাবি(তলব-ই-ইশাদ) তলব-ই-ইশাদ অর্থ হলো সাক্ষীর স্মমুখে দাবী। তলব-ই-মৌসিবত উত্থাপনের পর ইহা দ্বিতীয় পদক্ষেপ এবং ইহা প্রথম দাবীরই পুনরাবৃত্তি, তবে ইহা কমপক্ষে দুই জন সাক্ষীর সম্মুখে হতে হবে। এই জন্য ইহাকে তলব-ই-তকরির ও বলা হয়। এই ধরনের দাবী ঘোষণা আকারে কিংবা লিখিত বা মৌখিক হতে পারে। তলব-ই-ইশাদ বিক্রেতা কিংবা ক্রেতা কে সম্বোধন করে প্রকাশ করতে হবে। তবে তাদের কাউকে পাওয়া না গেলে দ্বিতীয় দাবীটি বিক্রিত সম্পত্তি সম্বোধন করে করতে হবে
৩)তৃতীয় দাবী (তলব-ই- তমলিক) তলব-ই- তমলিক প্রথম দুটি দাবীর পড়ে তৃতীয় দাবী। প্রথম দুটি দাবীর পর যদি ক্রেতা মেনে নেয় এবং তার নিকট সম্পত্তিটি বিক্রয় করে দেয় তাহলে অগ্রক্রয়ের দাবী বাস্তবায়িত হয়। সেক্ষেত্রে আর কোনও অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার আবশ্যকতার প্রয়োজন নেই এবং ক্রেতার স্থলে অগ্রক্রয়কারী প্রতিস্থাপিত হয়।কিন্তু যদি প্রথম দুটি দাবীর পর অগ্রক্রয়কারীর বিক্রিত সম্পত্তিটি পুনঃক্রয়ে ব্যর্থ হন তাহলে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার শরনাপন্ন হতে হবে অর্থাৎ আদালতে কোন মামলার দায়ের করতে হবে ।
অগ্রক্রয়ের মামলার মেয়াদঃ মুসলিম আইনের অধীনে অগ্রক্রয়ের জন্য রেজিষ্ট্রশনের তারিখ থেকে অথবা কেবল দখল অর্পণ যোগে বিক্রয় হয়ে থাকলে সেই দখল অর্পণের তারিখ থেকে এক বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।অগ্রক্রয় দাবী করে মামলা দায়ের করতে হলে দেওয়ানী কার্যবিধির অধীনে আরজি দাখিলের মাধ্যমে দায়ের করতে হবে এবং ১৯৫০ সনের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৬ ধারার অধীনে দরখাস্ত দাখিলের মাধ্যমে বিবিধ মোকদ্দমা হিসেবে করা যাবে না। মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় অগ্রক্রয়কারীর মৃত্যু হলে তার বৈধ প্রতিনিধি উক্ত মোকদ্দমা চালাতে পারেন। কিন্তু হানাফী আইনে অগ্রক্রয়ের মোকদ্দমায় ডিক্রী প্রদানের পূর্বে অগ্রক্রয়ের কারীর মৃত্যু হলে অগ্রক্রয়ের অধিকার নষ্ট হবে। কিন্তু শাফেয়ী এবং শিয়া মতবাদ অনুসারে, এই অধিকার নষ্ট হবে না,বরং মৃত ব্যক্তির বৈধ প্রতিনিধি উক্ত মোকদ্দমাটি চালাতে পারেন।
কে অগ্রক্রয়ের দাবী করতে পারে? মুসলিম আইনের অধীনে তিন শ্রেণীর ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের দাবী করতে পারেন। এরা হলেন ১)সাফা-ই-শরিক ২)সাফা-ই-খলিত ৩)সাফ-ই-জার
*** সাফা-ই-শরিক সম্পত্তির সহ অংশীদার মুসলিম আইনের অধীনে প্রথম অগ্রক্রয়ের দাবী জানাতে পারেন। যেমন-‘ক’ এবং ‘খ’ দুই ভাই এবং সম্পত্তির সহ অংশীদার। এখানে ‘ক’ যদি তার সম্পত্তি ‘চ’ এর নিকট বিক্রয় করেন তবে এক্ষেত্রে ‘খ’ এর সম্পত্তিটি অগ্রক্রয়ের অধিকার রয়েছে ।
*** সাফা-ই-খলিত সম্পত্তির ওপর যাতায়াত করবার এবং জলপ্রবাহ পাবার অধিকারী ব্যক্তি সম্পত্তিটি অগ্রক্রয়ের দাবী জানাতে পারেন। এই অধিকারকে সাফা-ই-খলিত বলে।
*** সাফ-ই-জার প্রতিবেশী বা সম্পত্তি সংলগ্ন জমির মালিক অগ্রক্রয়ের দাবী জানাতে পারেন। এই অধিকারকে সাফ-ই-জার বলা হয়। প্রথম শ্রেণীর অধিকারী দ্বিতীয় শ্রেণীর অধিকারকে এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর অধিকার তৃতীয় শ্রেণীর অধিকারকে বহির্ভূত করে। কিন্তু যখন একই শ্রেণীভুক্ত দুই বা ততোধিক অগ্রক্রয়াধিকারী থাকবে, তখন যে সম্পত্তির ক্ষেত্রে উক্ত অধিকারটির দাবী জানানো হয়েছে,তাতে উহার প্রত্যেকেই সমান দাবী করতে পারবেন
ক্রেতাকে মুসলমান হতে হবে কিনা ? অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবৎ করার জন্য ক্রেতাকে মুসলমান হবার আবশ্যকতা নাই(গোবিন্দ দয়াল বনাম করার জন্য ইনায়েতুল্লাহ(১৯৮৫)৭,এলাহাবাদ) কিন্তু [কুদরতুল্লাহ বনাম মোহিনী মোহন(১৮৬৯)৪ বেং এল.আর ১৩৪] মামলার রায়ে বলা হয়েছে ক্রেতাকে অবশ্যই মুসলমান হতে হবে। বিক্রেতা কে মুসলমান হতে হবে । যেখানে বিক্রেতা একজন হিন্দু সেখানে ক্রেতা মুসলমান হলেও কোন মুসলমান অগ্রক্রয়ের দাবী করতে পারেন না।অগ্রক্রয়াধিকারীকেও একজন মুসলমান হতে হবে। কারণ তিনি একজন মুসলমান হলে এবং পড়ে অগ্রক্রয়কৃত সম্পত্তিটি বিক্রি করতে চাইলে সেক্ষেত্রে সম্পত্তিটিকোন আগন্তুকের নিকট বিক্রয়ের পূর্বে কোন মুসলমান প্রতিবেশী কিংবা অংশীদারের নিকট উহা বিক্রয়ের প্রস্তাব দিতে তিনি বাধ্য। কিন্তু একজন অমুসলমান এই জাতীয় কোন দায়িত্ব পালনে বাধ্য নন এবং ইচ্ছা মতো তিনি সম্পত্তিটি যে কারও নিকট বিক্রয় করতে পারেন। কলিকতা হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত অনুসারে ক্রেতাকেও একজন মুসলমান হতে হবে। অতএব কোন হিন্দুর নিকট কোন মুসলমানের সম্পত্তি বিক্রয় হইলে ইহাতে কোন মুসলমান অগ্রক্রয়ের অধিকার পেতে পারেন না।
অগ্রক্রয় সংক্রান্ত মামলায় উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার পর অগ্রক্রয় (Pre-Emption) এর অধিকার উদ্ভব হয়। তবে যেক্ষেত্রে দলিল রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক সেক্ষেত্রে বিক্রয় দলিল সম্পাদনের তারিখ বা অন্য কোনো তারিখে রেজিস্ট্রির জন্য উপস্থাপন করা হলেও সেই তারিখে যদি দলিলটি রেজিস্ট্রি না হয় তাহলে ঐ তারিখটি অগ্রক্রয়ের মামলার জন্য কারণ হিসাবে গণনা করা যাবে না বরং যে তারিখে বিক্রয় দলিলটি রেজিস্ট্রি হয়েছে এবং স্বত্ব (Title) কার্যকরী ভাবে হস্তান্তরিত হয়েছে সেই তারিখ থেকেই অগ্রক্রয়ের মামলার কারণ সৃষ্টি হবে। সুতরাং যেক্ষেত্রে কবলা দলিল রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক যেক্ষেত্রে কবলা দলিলটি রেজিস্ট্রির তারিখ থেকেই অগ্রক্রয় মামলা করার কারণ (Cause of Action) শুরু হবে।
যদি কোনো দলিল হন্তান্তরের মাধ্যমে কার্যকরী হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে সেই দলিলটি রেজিস্ট্রির তারিখই হলো অগ্রক্রয় বা Pre-Emption মামলা দায়ের করার অধিকার সৃস্টির তারিখ। যদি কোনো দলিল ২/১২/১৯৭৫ইং তারিখে রেজিস্ট্রির জন্য উপস্থাপন করা হয় এবং ঐ দলিলটি যদি ২৪/১০১৯৭৯ তারিখে রেজিস্ট্রি হয় এবং অগ্রক্রয় মামলাটি যদি ১৩/২/১৯৮০ইং তারিখে দায়ের করা হয় সেক্ষেত্রে আপিল আদালত ঐ মামলাটি তামাদি বলে বারিত করতে পারবে না। {31DLR (AD) (111)}
হোল্ডিং তথা কোনো জমির খন্ড বা খন্ড সমূহের কোনো আংশিক অংশের জন্য অগ্রক্রয় মামলা করার অনুমোদন এর বিধান নাই। {28DLR 400}
যদি কোনো ক্রেতা কোনো জমি ক্রয় করার পর ঐ জমিটি অগ্রক্রয়কারীর সামনে চাষাবাদ করে থাকে সেক্ষেত্রে ঐ জমি বিক্রয় সম্পর্কে অজ্ঞতা বা অজানার অজুহাতে ১২ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যায় না। {33DLR 39}
অগ্রক্রয় অধিকারটি উত্তরাধিকার সূত্রে অধিকার অর্থাত্ কোনো ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের মামলা করে যদি মারা যান সেক্ষেত্রে ঐ মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারিগণও ঐ অগ্র্রক্রয় মামলার স্থলাবর্তী হয়ে মামলা পরিচালনা করতে পারবেন। {45DLR(AD) 118}
অগ্রক্রয়ের মামলা চালু থাকায় যদি কোনো সহ অংশীদার তার কোনো জমি ফেরত পায় তাহলেও অংশীদারদের অগ্রক্রয়ের মামলার অধিকারের কোনো ক্ষতি হয় না। {47DLR 607}
যদি একই দলিলে কয়েকটি হোল্ডিং বা জমির খন্ড হস্তান্তর করা হয়ে থাকে তাহলে এরূপ জমি খন্ডের সহ অংশীদার ঐ জমি খন্ডের প্রিএমশন মামলা করার জন্য দরখাস্ত করতে পারবেন। ২টি পৃথক জমি খন্ডের জন্য একই দরখাস্তে অগ্রক্রয় মামল করা যেতে পারে। {23DLR 68}
১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্টের ৯৬ ধারা অনুযায়ী একজন ঘোষিত (Notified) বা অঘোষিত (Non Notified) সহ অংশীদার নোটিশ জারীর পর থেকে ৪ মাসের মধ্যে অগ্রক্রয় মামলা করতে পারবে এবং হস্তান্তরিত জমির পাশ্ববর্তী জমির মালিক ও জমিটি হস্তান্তরের বিষয় জানার ৪ মাসের মধ্যে অগ্রক্রয় মামলার জন্য দরখাস্ত করতে পারবেন ।{21DLR 463}
১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনন্সি এক্টের ১১৭ ধারার বিধান অনুযায়ী কোনো জমির সকল সহ অংশীদারগণের উপর নোটিশ জারীর পর জমাভাগ করা হয়েছে তা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত মূল জমা অক্ষত বা অখন্ড থাকবে এবং কোনো জমির (হোল্ডিং) সহ অংশীদার ঐ জমির সহ অংশীদার হিসাবে বিদ্যমান থাকবেন এবং তার অগ্রক্রয় মামলা করার অধিকার বলবত্ থাকবে। {52DLR 223}
অগ্রক্রয় মামলা করতে কোনো আগ্রহী ব্যক্তি বা দরখাস্তকারী ব্যক্তি যদি ১৯৫০ সালের স্টেট একুই জিশন এন্ড টেনন্সি এক্টের ৯০ ধারা অনুযায়ী জোত জমি দখলে রাখার সীমাবদ্ধতার ব্যাপারে যা প্রয়োজনীয় যেরূপ কোনো তথ্য উল্লেখ করতে কিংবা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়। যেক্ষেত্রে দরখাস্ত কারীর দরখাস্ত খারিজ হয়ে যাবে। {33DLR 318}
দীর্ঘদিন অতিবাহিত পর যদি কোনো ব্যক্তি ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজশন এন্ড টেনসি এক্টের ৯৬(১) ধারা অনুযায়ী তার (প্রি এমটর) অগ্রক্রয় অধিকার প্রয়োগ করতে চায় তাহলে ঐ ব্যক্তিকে বিতর্কিত জমিটির হস্তান্তরের বিষয়ে দেরীতে অবগত হওয়া বা জানার ব্যাপারটি তাকেই বিশ্বাসযোগ্য স্বাক্ষ্য প্রমাণের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। {50DLR-193}
কোনো অগ্রক্রয় মামলার দরখাস্তকারী যদি সহ অংশীদার হয়ে থাকেন তাহলে তিনি অবশিষ্ট সকল সহ-অংশীদারকে এবং দরখাস্তকারী যদি হস্তান্তরিত জমির সংযুক্ত বা পাশ্ববর্তী জমির মালিক হন তাহলে হস্তান্তরিত জমির সংযুক্ত বা পাশ্ববর্তী জমির মালিক হন তাহলে হস্তান্তরিত জমির পাশ্ববর্তী জমির মালিকগণকে এবং হস্তান্তর গ্রহীতাকে পক্ষ করে প্রি এমশন মামলা দায়ের করতে হবে। {33DLR(AD) 113}
উত্তরাধিকার সূত্রে রেকর্ডকৃত বা অ-রেকর্ডকৃত সকল সহ অংশীদারকে অগ্রক্রয় মামলায় আবশ্যকীয় পক্ষ করতে হবে অন্যথায় ঐ মামলার প্রয়োজনীয় বিষয় ব্যর্থ হয়ে যাবে। {28DLR(AD) 5, 33DLR(AD) 113}
অগ্রক্রয় মামলার জন্য দরখাস্ত কারী ব্যক্তিকে মামলা করার সময় পনের টাকা এবং ক্ষতিপূরণর টাকা জমা না দিলেও মামলা করা যাবে কিন্তু আদালত কর্তৃক প্রদত্ত সময় সীমার মধ্যে পনের টাকা এবং ক্ষতিপূরণের টাকা দাখিল করতে হবে। {IBLD(HCD) 328. }
সহ অংশীদার তার উপর নোটিশ জারীর পর মূল অগ্রক্রয় মামলায় যোগ দিতে পারবেন অথবা সময় সীমার মধ্যে স্বতন্ত্রভাবেও মামলা দায়ের করতে পারবেন তবে তাকে যে নন জয়ন্ডার অফ পার্টিজ করা হয়েছে তাকে সেই সুযোগটি প্রথমেই নিতে হবে নইলে ঐ আপত্তি গ্রহণ যোগ্য হবে না। (20DLR 480)
যদি কখনও ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এক্টের ৯৬(১) ধারা অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের দরখাস্তটি রক্ষনীয় নয় বলে খারিজ (ডিসমিস) হয়ে যায় তাহলে তার অর্থ এই নয় যে, যারা এই আইনের ৮৯ ধারা মতে নোটিশ জারীর পর মামলায় শরিক হন বা যোগদান করেন তাদের প্রি-এমশনের অধিকার বাতিল হয়ে যাবে।তাদের ও পরিস্কার যে, সহ দরখাস্তকারীগণের ক্ষেত্রে হস্তান্তরের বিষয়টি অবগত হওয়ার তারিখ নোটিশ জারীর তারিখ হতে হিসাব করতে হবে। {36DLR 250}
১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্টের ৯৬ (৫) ধারা অনুযায়ী উত্তরাধিকার সূত্রে অংশীদারদের অগ্রক্রয় মামলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে তারপর ক্রয়সূত্রে সহ অংশীদারের এবং তারপর পাশ্ববর্তী জমির মালিকের অধিকার আসবে। যদি কোনো জমির হস্তান্তর হেবা বিল এওয়াজের মাধ্যমে হয়ে থাকে এবং হস্তান্তর গ্রহীতাগণ রক্তের সম্পর্কের ৩ তিন ডিগ্রীর মধ্যে না হন তাহলে অগ্রকয় বা প্রি এমশনের মামলার দরখাস্ত মঞ্জুর করা যাবে। {49DLR 477}
১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনন্সি এক্টের ৯৬(১০) ধারা অনুযায়ী উইল বা ইচ্ছাপত্র বা দান কিংবা এওয়াজ বদলের মাধ্যমে কোন জমি হস্তান্তরিত হলে সেই হস্তান্তরের অগ্রক্রয় বা প্রি-এমশন মামলা হতে মুক্ত বা বহির্গত বলে গণ্য হবে । {48DLR 170}
কোনো ব্যক্তির পিতা যদি মূল মালিকের নিকট হতে প্রি-এমশনভুক্ত জমিটির মালিক হয়ে থাকেন এবং পিতার মৃত্যুর পর পূত্রগণ/উত্তরাধিকারী গণ ঐ জমির মালিক বলে গণ্য হবেন এবং পূত্রগণ উত্তরাধিকার সূত্রে জমিটির মূল মালিকের সহ-অংশীদার বলে গন্য হবেন। {35DLR(AD) 54}
১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্টের ৯৬ ধারার ১০ উপধারায় উল্লেখিত ব্যতিক্রম অনুযায়ী যদি কোনো জমির হস্তান্তর আর্থিক বিবেচনা ব্যতীত হেবা বিল এওয়াজ কোন জমির হস্তান্তর আর্থিক বিবেচনা ব্যতীত হেবা বিল এওয়াজের মাধ্যমে হস্তান্তরিত হয় তাহলে হস্তান্তরিত জমিটির ক্ষেত্রে অগ্রক্রয় বা প্রি-এমশন মামলা করা যাবে না ।যদিও হস্তান্তরটি হস্তান্তর গ্রহীতা ও দাতার মধ্যে রক্ত সম্পর্কীয় ৩ (তিন) ডিগ্রীর মধ্যে না হয়। {50DLR544.}
Sunday, 15 May 2016
জমিজমা সংক্রান্ত আইন ও বিধি
জমিজমা সংক্রান্ত আইন ও বিধি
নামজারী বা মিউটেশন সংক্রান্ত আইন
> ভূমি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়েল, ১৯৯০
ডুবে যাওয়া জমি (সিকস্তি) ও জেগে ওঠা জমি (পয়োস্তি)
> ১৮২৫ সালের বেঙ্গল এলুভিয়ন ও ডিলুভিয়ন রেগুলেশন
খাস জমি বন্দোবস্ত সংক্রান্ত আইন
> ১৯৮৪ সালের ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ
> ১৯১৩ সালের সরকারী পাওনা আদায় আইন
অকৃষি খাসজমি বন্দোবস্তের নীতিমালা
> ১৯৯৫ সালের ৮ই মার্চে প্রকাশিত গেজেট
ভূমি জরিপ, দলিল সম্পাদন ও রেজিষ্ট্রশন সংক্রান্ত আইন
ভূমি জরিপ, দলিল সম্পাদন ও রেজিষ্ট্রশন সংক্রান্ত আইন
> ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্ট
> ১৯০৮ সালের রেজিষ্ট্রেশন আইন (সংশোধনী ২০০৫ সহ)
> ১৯৫৫ সালের প্রজাস্বত্ব বিধি
> ১৮৭৫ সালের ভূমি জরিপ আইন
বর্গাচাষ সংক্রান্ত আইন
> ১৯৮৪ সালের ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ
ওয়াকফ সংক্রান্ত আইন
ওয়াকফ সংক্রান্ত আইন
> ১৯৬২ সালের ওয়াকফ অধ্যাদেশ
ইজমেন্ট বা সুখাধিকার সংক্রান্ত আইন
ইজমেন্ট বা সুখাধিকার সংক্রান্ত আইন
> ১৯৮২ সালের ইজমেন্ট রাইট এক্ট
অগ্রক্রয় সংক্রান্ত আইন
> ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্ট
সম্পত্তি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত আইন
সম্পত্তি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত আইন
> ১৯৮২ সালের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল অধ্যাদেশ
> ১৯৫০ সালের সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইন
দখল সংক্রান্ত আইন
> ১৮৭৭ সালে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন
> ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধি
> ১৯০৮ সালের তামাদি আইন (ধারা)
> ১৯০৮ সালের তামাদি আইন (অনুচ্ছেদ)
> ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন
ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত আইন
ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত আইন
> ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত ৩০.০৫.১৯৯৫ ইং তারিখে পাশকৃত সংশোধনী
> ১৯১৩ সালের সরকারী পাওনা আদায় আইন
অন্যান্য আইন
> ষ্ট্যাম্প এক্ট, ১৮৯৯
> ১৯৪৯ সালের অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন
> ১৯৫৯ সনের ৬নং অধ্যাদেশ
> ১৯৭২ সালের ৯৮ নং প্রেসিডেন্ট আদেশ
> ১৯৭২ সালের প্রেসিডেন্টের আদেশ নং ১৩৭
ওয়াকফ কি
ওয়াকফ কিঃ
কোন মুসলমান কর্তৃক ধর্মীয়, পবিত্র বা দাতব্য কাজের উদ্দেশ্যে তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করাকে বুঝায়। তবে কোন অমুসলিমও একই সম্পত্তি একই উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করতে পারেন।
ওয়াকফ দুই প্রকার: ১) ওয়াকফ লিল্লাহ ও ২) ওয়াক্ফ আল-আওলাদ
যে সব উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করা যায়:
মক্কা শরীফের হাজীদের জন্য বোরাত বা বোডিং হাইজ নির্মাণ, ঈদগাহ নির্মাণ, মাদ্রাসা, খানকা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর ব্যয় নির্বাহ, হজ্জ পালনে সাহায্য করা, গরীবদের সাহায্য করা। ওয়াকিফ ও তার বংশধর ভরন পোষণ ইত্যাদি উদ্দেশ্যে সম্পত্তি উৎসর্গ করা যায়।
কোন মুসলমান কর্তৃক ধর্মীয়, পবিত্র বা দাতব্য কাজের উদ্দেশ্যে তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করাকে বুঝায়। তবে কোন অমুসলিমও একই সম্পত্তি একই উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করতে পারেন।
ওয়াকফ দুই প্রকার: ১) ওয়াকফ লিল্লাহ ও ২) ওয়াক্ফ আল-আওলাদ
যে সব উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করা যায়:
মক্কা শরীফের হাজীদের জন্য বোরাত বা বোডিং হাইজ নির্মাণ, ঈদগাহ নির্মাণ, মাদ্রাসা, খানকা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর ব্যয় নির্বাহ, হজ্জ পালনে সাহায্য করা, গরীবদের সাহায্য করা। ওয়াকিফ ও তার বংশধর ভরন পোষণ ইত্যাদি উদ্দেশ্যে সম্পত্তি উৎসর্গ করা যায়।
ওয়াকফের শর্তাবলী:
• ওয়াকিফকে অবশ্যই সুস্থ মস্তিস্কের অধিকারী ও
সাবালক হতে হবে।
• ওয়াকফের উদ্দেশ্যে যে সম্পত্তি উৎসর্গ করা
হবে তা অবশ্যই চিরস্থায়ীভাবে উৎসর্গ করতে
হবে।
• ওয়াকফের উদ্দেশ্যে অবশ্যই মুসলিম আইন
অনুযায়ী ধর্মীয় বা দাতব্য প্রকৃতির হতে হবে।
• স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি উভয়ই বৈধ ওয়াকফের
বিষয়বস্তু হতে পারে।
• ওয়াকিফ যে সম্পত্তি উৎসর্গ করবেন অবশ্যই তা
বৈধ মালিকানার হতে হবে।
• ওয়াকফটি সম্পূর্ণ হওয়ার পর তা হস্তান্তর অযোগ্য
হয়ে যায়। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে
মোতাওয়াল্লী আদালত বা ওয়াকফ প্রশাসকের
অনুমতিক্রমে হস্তান্তর করা যেতে পারে।
অমুসলিম ব্যক্তি কর্তৃক ওয়াকফ:
অমুসলিম ব্যক্তিও ওয়াকফ করতে পারবেন। কিন্তু তা
ওয়াকফ সৃস্টিকারী ব্যক্তির ধর্ম অনুসারে বৈধ বা
আইনসঙ্গত হতে হবে।এক্ষেত্রে
উৎসর্গকারীকে অবশ্যই ইসলামের মূলনীতিতে
বিশ্বাস থাকতে হবে।কিন্তু তাকে অবশ্যই মুসলিম
হতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই।
ওয়াকফ প্রশাসক: সরকার ওয়াক্ফ সম্পত্তি নিয়ন্ত্রন ও ব্যবস্থাপনার জন্য ওয়াকফ অধ্যাদেশ এর ৭ ধারা অনুসারে ওয়াকফ প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে থাকেন। যিনি ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ন্ত্রন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন কওে থাকেন।
ওয়াকফ প্রশাসক এর দায়িত্ব ও কর্তব্যঃ
১। ওয়াকফ প্রশাসক ওয়াকফ ও এর তহবিল পরিচালনার জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন কানে। তিনি এই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পারন করেন। (ধারা- ১৯, ২০)
২। প্রশাসক সরকারের অনুমতিক্রমে এবং ওয়াক্ফ এর কল্যাণে/ উন্নতিকল্পে ওয়াক্ফকৃত সম্পত্তি হস্থান্তর করতে পারে।(ধারা-৩৩)
৩। প্রশাসক উপযুক্ত কারন সাপেক্ষে মোতায়াল্লীকে অপসারন করতে পারেন।(ধারা-৩২)
৪। প্রশাসক তার প্রতিনিধির মাধ্যমে বা জেলা প্রশাসক এর মাধ্যমে তার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। (বাস্তব্যে জেলা প্রশাসকই ওয়াক্ফ প্রশাসকের পক্ষে দায়িত্ব পালন করেন।(ধারা- ৩৪, ৩৬)
৫। ওয়াক্ফ প্রশাসকের কোন আদেশে কেউ সংক্ষুদ্ধ হইলে তিনি জেলা জজের আদালতে আপিল করতে পারেন। (ধারা- ৩৫)
মোতায়াল্লী নিয়োগ:
ওয়াক্ফ পরিচালার জন্য গঠিত কমিটির সদস্য সচিবের বা ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যবস্থাপকের ভূমিকায় যিনি থাকেন তাকেই বলে মোতায়াল্লি। মোতায়াল্লি সাবালক ও মানসিকভাকে সুস্থ হবেন।
মোতায়াল্লী নিয়োগ প্রক্রিয়া নিম্নরুপ:
ওয়াকিফ নিজে মোতাল্লী হতে পারেন।ওয়াকিফ সম্পত্তির সুবিধাভোগী ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক মোননীত হতে পারেন।
ওয়াকিফের মৃত্যুকালীন ঘোষণা দ্বারাও কোন ব্যক্তি মোতায়াল্লী হতে পারেন।
আধ্যাত্মিক কার্যক্রম না থাকলে মাহিলাও মোতায়াল্লী নিযুক্তি হতে পারবেন।
প্রশাসক মোতায়াল্লী নিয়োগ করতে পারেন।
ওয়াকফ প্রত্যাহার : উইলের মাধ্যমে ওয়াক্ফ সৃষ্টি হয়ে থাকলে ওয়াকিফ তার মৃত্যুর পূর্বে যে কোন সময় তা প্রত্যাহর করতে পারেন। তবে ইউল ব্যতিত অন্য কোন ক্ষেত্রে ওয়াক্ফি ওয়াক্ফ সম্পত্তি প্রত্যাহার করতে পারেন না।
ওয়াকফ করা বাধ্যতামূলক: মোহামেডনস ল অনুযায়ী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে ঈদগাহ, কবরস্থান, ইমামবাড়ী, মাদ্রাসা ও মসজিদের জন্য জমি দান করলে তা অবশ্যই ওয়াক্ফ করতে হবে। অন্যদিকে, হিন্দু ধর্মাবলম্বী লোকজন মন্দিরের দেবতার উদ্দেশ্যে পূর্ণ অর্জনের লক্ষে যে সম্পত্তি উঃসর্গ করে তাকে দেবোত্তর সম্পত্তি। দেবোত্তর সম্পত্তি যিনি পরিচালনা করে তাকে সেবাইত বলে। সেবাইত দেবত্তর সম্পত্তি হস্থান্তর করতে পারে না। ধর্মমন্ত্রালয়ের অধীনে একটি দেবোত্তর সম্পত্তি সেল আছে। উক্ত সেল থেকে এরুপ সম্পত্তির সার্বিক তত্ত্বাবধান করা হয়।
ওয়াকফ সম্পত্তি হস্থান্তরঃ ধর্মীয় প্রতিষ্টান এর সুবিধার জন্য দূরবর্তী স্থানের জমি বিক্রয় নিকটবর্তীস্থানে জমি ক্রয়ের জন্য ওয়াক্ফ প্রশাসক এর পূর্বানুমতি নিয়া ওয়াক্ফ সম্পত্তি বিক্রয় করা যায়।
ওয়াকফ সম্পত্তি তালিকাভূক্তির নিয়মঃ যে কেউ ওয়াক্ফ সম্পত্তি তালিকাভূক্তির জন্য ওয়াক্ফ অধ্যাদেশ এর ৪৭ ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ প্রতিষ্ঠান যেমন মাজার লাভজনক হওয়ার কারণে তার লাভজনক এড়ানোর প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এক্ষেত্রে যে কেউ তালিকাভূক্তির জন্য আবেদন করতে পারে।
Saturday, 14 May 2016
পিতা-মাতার ভরন-পোষণ আইন 2013
**********২০১৩ সালে পিতা-মাতার ভরন-পোষণ আইন তৈরি হয়***********
পিতা মাতার ভরনপোষণঃ ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরনপোষন আইন এর ৩ ধারায় বলা হয়
(১) প্রত্যেক সন্তানকে তাহার পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করিতে হইবে।
(১) প্রত্যেক সন্তানকে তাহার পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করিতে হইবে।
(২) কোন পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকিলে সেইক্ষেত্রে সন্তানগণ নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করিয়া তাহাদের পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করিবে।
(৩) এই ধারার অধীন পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করিবার ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার একইসঙ্গে একই স্থানে বসবাস নিশ্চিত করিতে হইবে।
(৪) কোন সন্তান তাহার পিতা বা মাতাকে বা উভয়কে তাহার, বা ক্ষেত্রমত, তাহাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে, কোন বৃদ্ধ নিবাস কিংবা অন্য কোথাও একত্রে কিংবা আলাদা আলাদাভাবে বসবাস করিতে বাধ্য করিবে না।
(৫) প্রত্যেক সন্তান তাহার পিতা এবং মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ খবর রাখিবে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা ও পরিচর্যা করিবে।
(৬) পিতা বা মাতা কিংবা উভয়, সন্তান হইতে পৃথকভাবে বসবাস করিলে, সেইক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তানকে নিয়মিতভাবে তাহার, বা ক্ষেত্রমত, তাহাদের সহিত সাক্ষাত করিতে হইবে।
(৭) কোন পিতা বা মাতা কিংবা উভয়ে, সন্তানদের সহিত বসবাস না করিয়া পৃথকভাবে বসবাস করিলে, সেইক্ষেত্রে উক্ত পিতা বা মাতার প্রত্যেক সন্তান তাহার দৈনন্দিন আয়-রোজগার, বা ক্ষেত্রমত, মাসিক আয় বা বাৎসরিক আয় হইতে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ পিতা বা মাতা, বা ক্ষেত্রমত, উভয়কে নিয়মিত প্রদান করিবে।
মা-বাবা ছাড়া আরো যারা ভরণ-পোষণ পাবেনঃ
২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরনপোষন আইন এর ৪ ধারায় বলা আছে
প্রত্যেক সন্তান তাহার—
২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরনপোষন আইন এর ৪ ধারায় বলা আছে
প্রত্যেক সন্তান তাহার—
(ক) পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদীকে; এবং
(খ) মাতার অবর্তমানে নানা-নানীকে—
ধারা ৩ এ বর্ণিত ভরণ-পোষণ প্রদানে বাধ্য থাকিবে এবং এই ভরণ পোষণ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ হিসাবে গণ্য হইবে।
ভরণ-পোষণের পরিমাণঃ
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইনের ৩ এর (৭) অনুযায়ী, কোনো পিতা বা মাতা কিংবা উভয়ে, সন্তানদের সহিত বসবাস না করিয়া পৃথকভাবে বসবাস করিলে, সেই ক্ষেত্রে উক্ত পিতা বা মাতার প্রত্যেক সন্তান তাহার দৈনন্দিন আয়-রোজগার, বা ক্ষেত্রমতো, মাসিক আয় বা বাৎসরিক আয় হইতে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ পিতা বা মাতা, বা ক্ষেত্রমতে, উভয়কে নিয়মিত প্রদান করিবে। অথবা মাসিক আয়ের কমপক্ষে দশ ভাগ পিতা-মাতার বরণ পোষণ করিবেন।
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইনের ৩ এর (৭) অনুযায়ী, কোনো পিতা বা মাতা কিংবা উভয়ে, সন্তানদের সহিত বসবাস না করিয়া পৃথকভাবে বসবাস করিলে, সেই ক্ষেত্রে উক্ত পিতা বা মাতার প্রত্যেক সন্তান তাহার দৈনন্দিন আয়-রোজগার, বা ক্ষেত্রমতো, মাসিক আয় বা বাৎসরিক আয় হইতে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ পিতা বা মাতা, বা ক্ষেত্রমতে, উভয়কে নিয়মিত প্রদান করিবে। অথবা মাসিক আয়ের কমপক্ষে দশ ভাগ পিতা-মাতার বরণ পোষণ করিবেন।
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করিবার দণ্ডঃ
৫। (১) কোন সন্তান কর্তৃক ধারা ৩ এর যে কোন উপ-ধারার বিধান কিংবা ধারা ৪ এর বিধান লংঘন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবে; বা উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
৫। (১) কোন সন্তান কর্তৃক ধারা ৩ এর যে কোন উপ-ধারার বিধান কিংবা ধারা ৪ এর বিধান লংঘন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবে; বা উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
(২) কোন সন্তানের স্ত্রী, বা ক্ষেত্রমত, স্বামী কিংবা পুত্র-কন্যা বা অন্য কোন নিকট আত্নীয় ব্যক্তি—
(ক) পিতা-মাতার বা দাদা-দাদীর বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণ প্রদানে বাধা প্রদান করিলে; বা
(খ) পিতা-মাতার বা দাদা-দাদীর বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণ প্রদানে অসহযোগিতা করিলে—
তিনি উক্তরূপ অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করিয়াছে গণ্যে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
অপরাধের আমলযোগ্যতা, জামিনযোগ্যতা ও আপোষযোগ্যতাঃ
৬। এই আইনের অধীন অপরাধ আমলযোগ্য (cognizable), জামিনযোগ্য (bailable) ও আপোষযোগ্য (compoundable) হইবে।
অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ ওবিচারঃ
৭। (১) Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ ১ম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বিচারযোগ্য হইবে।
৬। এই আইনের অধীন অপরাধ আমলযোগ্য (cognizable), জামিনযোগ্য (bailable) ও আপোষযোগ্য (compoundable) হইবে।
অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ ওবিচারঃ
৭। (১) Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ ১ম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বিচারযোগ্য হইবে।
(২) কোন আদালত এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ সংশ্লিষ্ট সন্তানের পিতা বা মাতার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত আমলে গ্রহণ করিবে না।
আপোষ-নিষ্পত্তিঃ
৮। (১) আদালত এই আইনের অধীন প্রাপ্ত অভিযোগ আপোষ-নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা মেম্বার, কিংবা ক্ষেত্রমত, সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার মেয়র বা কাউন্সিলর, কিংবা অন্য যে কোন উপযুক্ত ব্যক্তির নিকট প্রেরণ করিতে পারিবে।
৮। (১) আদালত এই আইনের অধীন প্রাপ্ত অভিযোগ আপোষ-নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা মেম্বার, কিংবা ক্ষেত্রমত, সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার মেয়র বা কাউন্সিলর, কিংবা অন্য যে কোন উপযুক্ত ব্যক্তির নিকট প্রেরণ করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন অভিযোগ আপোষ-নিষ্পত্তির জন্য প্রেরিত হইলে, সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান, মেয়র, মেম্বার বা কাউন্সিলর উভয় পক্ষকে শুনানীর সুযোগ প্রদান করিয়া, উহা নিষ্পত্তি করিবে এবং এইরূপে নিষ্পত্তিকৃত অভিযোগ উপযুক্ত আদালত কর্তৃক নিষ্পত্তিকৃত বলিয়া গণ্য হইবে।
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতাঃ
৯। সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
৯। সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
About Me
Powered by Blogger.